Google Search Console: সম্পূর্ণ বাংলা গাইড ২০২৬

Abrar Arian
By -
0
Google Search Console কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন? (সম্পূর্ণ বাংলা গাইড ২০২৬)

আপনার ওয়েবসাইট গুগলে কোথায় আছে? কোন পেজ কতটা ট্রাফিক পাচ্ছে? গুগল আপনার সাইট ইনডেক্স করছে কিনা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একটাই জায়গা থেকে পাওয়া যায় — Google Search Console


Google Search Console সম্পূর্ণ বাংলা গাইড ২০২৬


যারা ব্লগিং বা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে Search Console একটা অপরিহার্য টুল। অথচ অনেকেই এটা ঠিকভাবে ব্যবহার করেন না, বা জানেনই না যে এটা দিয়ে কতটা কাজ করা যায়। এই গাইডে আমি Google Search Console-এর প্রতিটি দিক সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করবো।


Google Search Console কী?

Google Search Console (পূর্বে Google Webmaster Tools নামে পরিচিত ছিল) হলো গুগলের একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের ওয়েব টুল যেটা ওয়েবসাইট মালিকদের বলে দেয় তাদের সাইট গুগলে কেমন পারফর্ম করছে।

সহজ ভাষায়, এটা আপনার ওয়েবসাইট আর গুগলের মধ্যে একটা সেতু। গুগল আপনার সাইট নিয়ে কী ভাবছে, কোথায় সমস্যা দেখছে, কোন কিওয়ার্ডে আপনাকে দেখাচ্ছে — এই সব তথ্য Search Console আপনাকে দেয়।

এটা শুধু SEO বিশেষজ্ঞদের জন্য নয়। আপনি যদি একজন ছোট ব্লগারও হন, তাহলেও Search Console আপনার কাজে লাগবে।


Google Console Search এবং অন্যান্য Google Console পণ্য

অনেকে "Google Console" বলতে বিভিন্ন জিনিস বোঝেন। গুগলের আসলে একাধিক "Console" পণ্য আছে। এগুলো একটু পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার যাতে কোনটা কী কাজে লাগে তা বুঝতে পারেন।

Google Search Console

এটাই আজকের মূল বিষয়। ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য তৈরি SEO টুল। গুগল সার্চে আপনার সাইটের পারফরম্যান্স ট্র্যাক করে।

Google Play Console

Google Play Console হলো Android অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য তৈরি প্ল্যাটফর্ম। এটা দিয়ে Google Play Store-এ অ্যাপ পাবলিশ করা, রিভিউ ম্যানেজ করা, এবং অ্যাপের পারফরম্যান্স দেখা যায়। ওয়েবসাইট SEO-র সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

Google Cloud Console

Google Cloud Console হলো গুগলের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজ করার জায়গা। ডেভেলপার এবং কোম্পানিরা এটা ব্যবহার করে সার্ভার, ডেটাবেস, এবং অন্যান্য ক্লাউড সার্ভিস চালাতে।

Google Developer Console

Google Developer Console হলো ডেভেলপারদের জন্য যেখানে তারা Google API ব্যবহার করার অনুমতি (credentials) তৈরি করেন। Google Maps API, YouTube API, বা Gmail API ব্যবহার করতে হলে এখান থেকে key নিতে হয়।

Google Admin Console

Google Admin Console হলো Google Workspace (পূর্বে G Suite) ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোর জন্য। এটা দিয়ে কর্মচারীদের অ্যাকাউন্ট, ইমেইল, এবং অ্যাপের অ্যাক্সেস ম্যানেজ করা হয়।

Google Console API

Google Console API বলতে সাধারণত Google APIs বোঝায় যেগুলো developer console থেকে ম্যানেজ করা হয়। Search Console-এর নিজস্ব API-ও আছে যেটা দিয়ে প্রোগ্রামেটিকভাবে সাইটের পারফরম্যান্স ডেটা নিয়ে কাজ করা যায়।


Google Search Console Account তৈরি করবেন কীভাবে?

Google Search Console Account তৈরি করা অনেক সহজ। শুধু একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই যথেষ্ট।

ধাপ ১: search.google.com/search-console-এ যান।

ধাপ ২: আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগ ইন করুন।

ধাপ ৩: "Start now" বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: আপনার প্রপার্টি টাইপ বেছে নিন। দুটো অপশন আছে — Domain এবং URL Prefix। Domain বেছে নিলে পুরো ডোমেইনের সব ডেটা একসাথে দেখা যায়, URL Prefix শুধু নির্দিষ্ট URL-এর জন্য।

ধাপ ৫: আপনার ওয়েবসাইটের মালিকানা যাচাই করুন। বেশ কয়েকটি উপায়ে এটা করা যায়।

মালিকানা যাচাইয়ের পদ্ধতিগুলো:

HTML ফাইল আপলোড: গুগল একটি HTML ফাইল দেবে যেটা আপনার সাইটের root ফোল্ডারে আপলোড করতে হবে।

HTML ট্যাগ: আপনার সাইটের <head> সেকশনে একটি মেটা ট্যাগ যোগ করতে হবে। Blogger বা WordPress ব্যবহারকারীদের জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ।

Google Analytics: যদি ইতোমধ্যে Google Analytics সেটআপ করা থাকে, তাহলে সেটা দিয়েই যাচাই করা যায়।

Google Tag Manager: Tag Manager ব্যবহার করলে সেটা দিয়েও যাচাই হয়।

DNS Record: Domain Provider-এ গিয়ে DNS TXT record যোগ করতে হয়। এটা সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি।

Blogger ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে সহজ হলো HTML ট্যাগ পদ্ধতি। Blogger Settings > Search Preferences > Google Search Console-এ গিয়ে সরাসরি যাচাই করার অপশন পাবেন।


Google Search Console-এর প্রধান ফিচারগুলো

১. Performance Report — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেকশন

Performance Report হলো Search Console-এর হৃদয়। এখানে আপনি দেখতে পাবেন আপনার সাইট গুগল সার্চে কেমন পারফর্ম করছে।

এই রিপোর্টে চারটি মূল মেট্রিক থাকে। Total Clicks হলো মানুষ সার্চ রেজাল্টে আপনার লিংকে কতবার ক্লিক করেছে। Total Impressions হলো আপনার সাইট কতবার সার্চ রেজাল্টে দেখা গেছে (ক্লিক না করলেও)। Average CTR মানে হলো Impression-এর তুলনায় কত শতাংশ সময় ক্লিক পাচ্ছেন। Average Position হলো গড়ে আপনার সাইট সার্চ রেজাল্টে কোন নম্বরে থাকছে।

এই ডেটা আপনি কিওয়ার্ড অনুযায়ী, পেজ অনুযায়ী, দেশ অনুযায়ী এবং ডিভাইস অনুযায়ী দেখতে পারবেন।

এখানে সবচেয়ে মূল্যবান তথ্যটা হলো — কোন কিওয়ার্ডে আপনার সাইট ৮ থেকে ২০ নম্বরে আছে কিন্তু ক্লিক কম পাচ্ছেন। এই পেজগুলো একটু অপটিমাইজ করলে সহজেই প্রথম পাঁচে আনা সম্ভব।

২. URL Inspection Tool

নতুন একটি ব্লগ পোস্ট লেখার পর গুগল সেটা ইনডেক্স করতে কিছুটা সময় নেয়। URL Inspection Tool দিয়ে আপনি যেকোনো URL চেক করতে পারবেন গুগল সেটা ইনডেক্স করেছে কিনা।

যদি ইনডেক্স না হয়ে থাকে, তাহলে "Request Indexing" বাটনে ক্লিক করে গুগলকে সেই পেজ দেখতে বলতে পারবেন। সাধারণত ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনডেক্স হয়ে যায়।

এই টুলটা আরো বলে দেয় পেজে কোনো mobile usability সমস্যা আছে কিনা, structured data সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, এবং পেজটা গুগলের চোখে কেমন দেখাচ্ছে।

৩. Index Coverage Report

এই রিপোর্ট দেখায় আপনার সাইটের কোন পেজগুলো গুগল ইনডেক্স করেছে এবং কোন পেজগুলোতে সমস্যা আছে।

চারটি ক্যাটেগরি দেখতে পাবেন — Error (ইনডেক্স হয়নি, সমস্যা আছে), Valid with Warning (ইনডেক্স হয়েছে কিন্তু সাবধান থাকুন), Valid (সব ঠিকঠাক), Excluded (ইচ্ছাকৃতভাবে বা অন্য কারণে ইনডেক্স করা হয়নি)।

Error গুলো ঠিক করা অনেক জরুরি। কমন Error-এর মধ্যে আছে 404 (পেজ খুঁজে পাওয়া যায়নি), Server Error (সাইট ডাউন ছিল), এবং Redirect Error।

৪. Sitemap Submission

Sitemap হলো আপনার সাইটের একটি নকশা — কোন কোন পেজ আছে সব তথ্য একটি XML ফাইলে লেখা থাকে। এই ফাইল গুগলকে দিলে গুগল আরো দ্রুত আপনার সব পেজ খুঁজে পায়।

Search Console-এর Sitemaps সেকশনে গিয়ে আপনার sitemap URL সাবমিট করুন। Blogger-এর জন্য sitemap URL হলো: yoursite.blogspot.com/sitemap.xml অথবা yoursite.com/sitemap.xml।

WordPress ব্যবহারকারীরা Yoast SEO বা Rank Math প্লাগইন থেকে sitemap URL পাবেন।

৫. Core Web Vitals

২০২১ সাল থেকে গুগল Core Web Vitals-কে র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে ব্যবহার করছে। Search Console-এ এই রিপোর্টটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তিনটি মূল মেট্রিক আছে। LCP (Largest Contentful Paint) — পেজের সবচেয়ে বড় কন্টেন্ট লোড হতে কত সময় লাগছে। ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে হলে ভালো। FID (First Input Delay) — ব্যবহারকারী প্রথমবার ক্লিক করলে সাড়া দিতে কত সময় লাগে। ১০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে হলে ভালো। CLS (Cumulative Layout Shift) — পেজ লোড হওয়ার সময় কন্টেন্ট কতটা নড়াচড়া করে। ০.১-এর কম হলে ভালো।

এই তিনটি স্কোর ভালো রাখলে গুগলের কাছে আপনার সাইটের পজিশন শক্তিশালী হয়।

৬. Mobile Usability

বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। গুগলও Mobile-First Indexing ব্যবহার করে, মানে মোবাইল ভার্সন দেখেই র‍্যাংকিং দেয়।

Mobile Usability রিপোর্ট দেখায় আপনার সাইটে মোবাইলে কোনো সমস্যা আছে কিনা। সাধারণ সমস্যাগুলো হলো টেক্সট অনেক ছোট, বাটন খুব কাছাকাছি, বা কন্টেন্ট স্ক্রিনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

৭. Links Report

Links রিপোর্টে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন। External Links — অন্য সাইট থেকে আপনার সাইটে কতটি ব্যাকলিংক আসছে এবং কোন পেজে বেশি লিংক আছে। Internal Links — আপনার নিজের সাইটের ভেতরে কোন পেজ থেকে কোন পেজে লিংক আছে।

ব্যাকলিংক SEO-র জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোন পেজে বেশি ব্যাকলিংক আছে জানলে আপনি সেই পেজগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে পারবেন।

৮. Manual Actions এবং Security Issues

যদি গুগল মনে করে আপনার সাইট তাদের গাইডলাইন লঙ্ঘন করছে, তাহলে Manual Action দেয়। এটা পেলে আপনার সাইটের র‍্যাংকিং মারাত্মকভাবে কমে যাবে।

Security Issues সেকশনে দেখা যায় আপনার সাইটে ম্যালওয়্যার বা হ্যাকিংয়ের কোনো লক্ষণ আছে কিনা। এই দুটো সেকশন নিয়মিত চেক করা উচিত।


Google Search Console দিয়ে SEO Ranking চেক করবেন কীভাবে?

Search Console ব্যবহার করে আপনি খুব কার্যকরভাবে SEO র‍্যাংকিং ট্র্যাক এবং উন্নত করতে পারবেন।

Performance রিপোর্টে যান। উপরে তারিখের ফিল্টার দিয়ে শেষ ৩ মাস বা ৬ মাসের ডেটা দেখুন। Queries ট্যাবে ক্লিক করলে সব কিওয়ার্ড দেখতে পাবেন। "Average Position" কলামে ক্লিক করে sort করুন।

এখন দেখুন কোন কিওয়ার্ডে আপনার পজিশন ৮ থেকে ২০-এর মধ্যে। এগুলো হলো "low-hanging fruit" — একটু কাজ করলেই এগুলো প্রথম পাঁচে আনা সম্ভব।

যদি কোনো কিওয়ার্ডে আপনার পজিশন ভালো কিন্তু CTR কম, তাহলে বুঝতে হবে Title বা Meta Description আকর্ষণীয় নয়। সেগুলো পরিবর্তন করলে আরো বেশি ক্লিক পাবেন।


Blogger-এ Google Search Console সেটআপ করার পদ্ধতি

Blogger ব্যবহারকারীদের জন্য Search Console সেটআপ করাটা একটু আলাদা, তাই এটা আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করছি।

পদ্ধতি ১ (সহজ): Blogger Dashboard-এ যান। Settings > Search preferences > Google Search Console-এ ক্লিক করুন। "Enable custom domain" অপশনে আপনার সাইট যোগ করুন। গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করবে।

পদ্ধতি ২ (HTML ট্যাগ দিয়ে): Search Console থেকে Meta Tag কপি করুন। Blogger-এ Theme > Edit HTML-এ যান। <head> ট্যাগের পরে Meta Tag paste করুন। Save করুন এবং Search Console-এ Verify করুন।

যাচাই হয়ে গেলে Sitemap সাবমিট করতে ভুলবেন না। Blogger-এর সাইটমাপের জন্য দুটো URL সাবমিট করুন: yoursite.com/sitemap.xml এবং yoursite.com/atom.xml?redirect=false&start-index=1&max-results=500।


Search Console-এর সাথে অন্যান্য টুলের সংযোগ

Search Console একা ব্যবহার করলেও ভালো, কিন্তু অন্য টুলের সাথে যুক্ত করলে আরো বেশি কাজে লাগে।

Google Analytics-এর সাথে: Search Console এবং Analytics সংযুক্ত করলে গুগল সার্চ থেকে আসা ট্রাফিক ব্যবহারকারীরা সাইটে কী করছে তা দেখা যায়। কোন পেজে বেশিক্ষণ থাকছে, কোথায় বাউন্স বেশি — এই তথ্য একসাথে পাবেন।

Keyword Research Tool-এর সাথে: Search Console-এ পাওয়া কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে আরো বিস্তারিত রিসার্চ করতে Google Keyword Planner বা Ubersuggest ব্যবহার করুন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের Keyword Research Free Tool গাইড

কিওয়ার্ড ডেটা বিশ্লেষণে: Search Console-এ কোন কিওয়ার্ড ভালো পারফর্ম করছে জানলে সেই কিওয়ার্ড Google Keyword Planner-এ দিয়ে আরো আইডিয়া পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানুন আমাদের Google Keyword Planner গাইড থেকে।

Keyword Planner কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা ধাপে ধাপে শিখতে চাইলে দেখুন আমাদের Keyword Planner How To Use আর্টিকেল। আর Keyword Planner ছাড়া অন্য কোন টুল ব্যবহার করা যায় তা জানতে পড়ুন Keyword Planner Alternative


Search Console-এর অ্যাডভান্সড ব্যবহার

কন্টেন্ট গ্যাপ খোঁজা

Performance রিপোর্টে দেখুন কোন কিওয়ার্ডে আপনার Impression বেশি কিন্তু ওই বিষয়ে আপনার কোনো ডেডিকেটেড পেজ নেই। এই কিওয়ার্ডগুলোই আপনার পরবর্তী ব্লগ পোস্টের বিষয় হতে পারে।

Seasonal ট্রেন্ড ধরা

তারিখ ফিল্টার দিয়ে গত বছরের একই সময়ের সাথে তুলনা করুন। কোন মাসে কোন কিওয়ার্ডে ট্রাফিক বেড়েছিল সেটা দেখে আপনি আগে থেকেই কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন।

দেশ অনুযায়ী ডেটা দেখা

Countries ট্যাবে গেলে দেখতে পাবেন কোন দেশ থেকে বেশি ট্রাফিক আসছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, সৌদি আরব, বা অন্য দেশ থেকে ট্রাফিক আসলে সেই অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করুন।

Featured Snippet পাওয়ার সুযোগ

যে কিওয়ার্ডগুলোতে আপনার পজিশন ৪ থেকে ১০-এর মধ্যে, সেখানে ভালো মানের definition বা list format-এ কন্টেন্ট থাকলে Featured Snippet পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। Featured Snippet মানে গুগলের প্রথম রেজাল্টের উপরে বাক্সে আপনার কন্টেন্ট দেখানো — এটা পেলে ট্রাফিক অনেক বাড়ে।


Search Console ব্যবহারে সাধারণ ভুলগুলো

অনেকে Search Console সেটআপ করেন কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করেন না। কিছু সাধারণ ভুল আছে যেগুলো এড়ানো উচিত।

প্রথম ভুল হলো Sitemap সাবমিট না করা। Sitemap ছাড়া গুগল আপনার সব পেজ খুঁজে পেতে অনেক বেশি সময় নেয়, বিশেষ করে নতুন সাইটের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় ভুল হলো Error রিপোর্ট দেখে ঠিক না করা। 404 Error বা Crawl Error র‍্যাংকিংকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এগুলো নিয়মিত চেক করুন।

তৃতীয় ভুল হলো শুধু Impressions দেখে খুশি হওয়া। Impression মানে লোকে দেখেছে কিন্তু ক্লিক করেনি। Clicks এবং CTR-ই আসল পরিমাপ।

চতুর্থ ভুল হলো মোবাইল ইস্যু উপেক্ষা করা। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ট্রাফিক মোবাইল থেকে, তাই Mobile Usability Error দ্রুত ঠিক করুন।

পঞ্চম ভুল হলো Search Console-এ ঢুকে শুধু একবার দেখা। এটা নিয়মিত চেক করার অভ্যাস করতে হবে — অন্তত সপ্তাহে একবার।


প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

Google Search Console কী?

Google Search Console হলো গুগলের একটি বিনামূল্যের টুল যেটা ওয়েবসাইট মালিকদের জানায় তাদের সাইট গুগল সার্চে কীভাবে পারফর্ম করছে। এটা দিয়ে সার্চ র‍্যাংকিং, ট্র্যাফিক, ইনডেক্সিং সমস্যা, এবং টেকনিক্যাল SEO ইস্যু সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

আমার SEO র‍্যাংকিং কীভাবে চেক করবো?

Google Search Console-এর Performance রিপোর্টে গেলে দেখতে পাবেন কোন কিওয়ার্ডে আপনার সাইট কোন পজিশনে আছে। "Average Position" কলাম দেখে বুঝতে পারবেন কোথায় আছেন। এটাই গুগলের দেওয়া সরাসরি ডেটা, তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

Google Search Console কি SEO-র জন্য ভালো?

হ্যাঁ, Search Console SEO-র জন্য অপরিহার্য। এটা গুগলের নিজের ডেটা দেয়, তাই অন্য যেকোনো তৃতীয় পক্ষের টুলের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। ইনডেক্সিং, র‍্যাংকিং, মোবাইল ইস্যু, Core Web Vitals — সব কিছু একটি জায়গা থেকে দেখা ও সমাধান করা যায়।

Search Console কি ফ্রি?

হ্যাঁ, Google Search Console সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। শুধু একটি গুগল অ্যাকাউন্ট দরকার। কোনো ক্রেডিট কার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দিতে হয় না।

Google Search Console এবং Google Analytics-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

Search Console দেখায় মানুষ গুগলে কী সার্চ করে আপনার সাইটে এসেছে এবং আপনার সাইট সার্চে কোথায় আছে। Analytics দেখায় সাইটে এসে তারা কী করেছে — কতক্ষণ থেকেছে, কোন পেজ দেখেছে, কোথায় চলে গেছে। দুটো একসাথে ব্যবহার করলে সবচেয়ে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।

Search Console-এ ডেটা দেখতে কতদিন লাগে?

Search Console সেটআপ করার পর ডেটা দেখতে সাধারণত ২ থেকে ৩ দিন লাগে। আর পুরো ডেটা স্থিতিশীল হতে এক সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। নতুন সাইটের ক্ষেত্রে গুগল ক্রল করতেও কিছুটা সময় নেয়।

Sitemap কি Search Console-এ সাবমিট করা জরুরি?

বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। Sitemap সাবমিট করলে গুগল আপনার সব পেজ দ্রুত খুঁজে পায় এবং নতুন কন্টেন্ট আরো তাড়াতাড়ি ইনডেক্স হয়। বিশেষ করে নতুন সাইটের জন্য এটা অবশ্যই করা উচিত।

Search Console-এ "URL is not on Google" মানে কী?

এর মানে হলো গুগল এখনো ওই পেজটি ইনডেক্স করেনি। URL Inspection Tool দিয়ে "Request Indexing" করলে গুগল পেজটি দ্রুত দেখার চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি পেজে noindex ট্যাগ থাকে বা robots.txt-এ ব্লক করা থাকে, তাহলে ইনডেক্স হবে না।

Google Play Console কি Search Console-এর মতো?

না, এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। Google Play Console Android অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য তৈরি — এটা দিয়ে Play Store-এ অ্যাপ ম্যানেজ করা হয়। Google Search Console ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য — এটা দিয়ে সাইটের সার্চ পারফরম্যান্স দেখা যায়।

Core Web Vitals ভালো না হলে কি র‍্যাংকিং কমে?

হ্যাঁ, Core Web Vitals গুগলের র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর। তবে এটা সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর নয় — কন্টেন্টের মান এবং ব্যাকলিংক এখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি দুটো সাইটের কন্টেন্ট একই মানের হয়, তাহলে যার Core Web Vitals ভালো সে এগিয়ে থাকবে।

Search Console-এ Manual Action পেলে কী করবো?

Manual Action পেলে প্রথমে বুঝতে হবে কী কারণে পেয়েছেন। Google-এর গাইডলাইন ভঙ্গ হলে এটা আসে। সমস্যা সমাধান করে Search Console-এ "Request a Review" করতে হবে। গুগল পর্যালোচনা করে Manual Action তুলে নেবে।

Google Cloud Console আর Google Search Console কি একই?

না, এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা পণ্য। Google Cloud Console হলো ডেভেলপার এবং কোম্পানির জন্য ক্লাউড সার্ভিস ম্যানেজ করার প্ল্যাটফর্ম। Google Search Console হলো ওয়েবসাইটের SEO পারফরম্যান্স দেখার টুল।

Search Console কি শুধু গুগলের জন্য?

হ্যাঁ, Google Search Console শুধু গুগল সার্চের ডেটা দেয়। Bing-এর জন্য আলাদাভাবে Bing Webmaster Tools ব্যবহার করতে হয়। তবে বাংলাদেশ ও ভারতে গুগলের মার্কেট শেয়ার ৯৫%-এর বেশি, তাই Search Console-ই যথেষ্ট।


উপসংহার

Google Search Console হলো ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্রি টুল। এটা ব্যবহার না করে SEO করার চেষ্টা করা অনেকটা চোখ বন্ধ করে গাড়ি চালানোর মতো।

আজকেই আপনার সাইটে Search Console সেটআপ করুন, Sitemap সাবমিট করুন, এবং নিয়মিত Performance রিপোর্ট চেক করুন। সপ্তাহে একবার হলেও দেখার অভ্যাস করুন। কোনো Error দেখলে সাথে সাথে ঠিক করুন। আর Performance রিপোর্টে যে কিওয়ার্ডগুলোতে ৮ থেকে ২০ নম্বরে আছেন, সেগুলোকে টার্গেট করুন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ, গুগল বিজ্ঞাপন, এবং SEO নিয়ে আরো জানতে আমাদের সাইটের বাকি গাইডগুলো পড়ুন। প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out Our Privacy Policy
Ok, Go it!